
পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার সুরক্ষার বিষয়ে কোনো হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ তা নিরবে দেখবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা-মদিনা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক। এটি কেবল কূটনীতির বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় আবেগ জড়িত। তাই কোনো হুমকি এলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মক্কা-মদিনা সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ঐক্যের জায়গা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। সেমিনারের পর আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল হুতি-সৌদি সংঘাত ও এর প্রভাব। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মক্কা জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। তাকে হুতি-সৌদি সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা, প্রবাসী বাংলাদেশসহ চলমান নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়া এবং সৌদি আরবের প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ এখনো কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়ার আগে সৈন্য পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ সরকার সবসময় শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আলোচিত মক্কা চুক্তি নিয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, এ মুহূর্তে বড় কোনো ঝুঁকি দেখছেন না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী হলেও বাংলাদেশ এতে সরাসরি বড় কোনো সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি শিগগিরই এই অবস্থার অবসান ঘটবে। তবে সৌদি আরবের যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে আমরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। আমরা চাই অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হোক।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই হামলায় ২৪ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা আইসিইউতে রয়েছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং পরিবার ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে অবিলম্বে এই পরিস্থিতির অবসান চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
